শক্তির উৎস মূলত দুই প্রকার: অনবায়নযোগ্য শক্তি (কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও ইউরেনিয়াম) যা একবার ব্যবহার করলে পুনরায় পাওয়া যায় না, এবং নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ুপ্রবাহ ও বায়োগ্যাস) যা অসীম ও পরিবেশবান্ধব।
১. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস (Non-renewable Energy)
যেসব শক্তির উৎস ব্যবহার করলে দ্রুত নিঃশেষিত হয়ে যায় এবং প্রাকৃতিকভাবে এদের পুনরুজ্জীবন ঘটতে লক্ষ লক্ষ বছর লেগে যায়, তাদের অনবায়নযোগ্য শক্তি বলে:
- জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels): কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাচীনকালের উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ মাটির নিচে উচ্চ তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে এটি তৈরি হয়েছে।
- নিউক্লিয়ার শক্তি (Nuclear Energy): ইউরেনিয়াম () পরমাণুর ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল তাপশক্তি উৎপন্ন করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয় (যেমন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র)।
২. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস (Renewable Energy)
প্রকৃতিতে অফুরন্ত এবং বারবার ব্যবহারের ফলেও কখনো ফুরিয়ে যায় না এমন শক্তির উৎসসমূহ:
নবায়নযোগ্য শক্তির প্রধান উৎসসমূহ
১. সৌরশক্তি (Solar Energy)
সূর্যরশ্মিসোলার সেল বা ফটোভোলটাইক প্যানেল ব্যবহার করে সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত।
২. জলবিদ্যুৎ (Hydroelectric)
পানির প্রবাহবাঁধ দিয়ে পানির বিভব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন (যেমন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র)।
৩. বায়ুশক্তি (Wind Energy)
বায়ুপ্রবাহবায়ুপ্রবাহের গতিশক্তিকে উইন্ডমিল (বায়ুকল) এর পাখা ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।
৪. বায়োগ্যাস ও বায়োমাস (Biogas)
জৈব বর্জ্যগোবর, কৃষিজ বর্জ্য ও গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে অ্যানারোবিক প্রক্রিয়ায় মিথেন গ্যাস উৎপাদন।
৩. শক্তির রূপান্তর ও পরিবেশের ওপর প্রভাব
জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড (), সালফার ডাই-অক্সাইড () ও নাইট্রোজেন অক্সাইড মিশে যায়। এর ফলে গ্রিনহাউস ইফেক্ট সৃষ্টি হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটছে এবং এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি ব্যবহার বাড়ানো অপরিহার্য।
১. অপ্রয়োজনে বাতি, ফ্যান ও এসির সুইচ বন্ধ রাখা।
২. সাধারণ বাল্বের পরিবর্তে উচ্চ কর্মদক্ষতার LED বাতি ব্যবহার করা।
৩. ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন বা সাইকেল ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া।