শক্তির মৌলিক রূপ
কোনো বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যই হলো শক্তি (Energy)। কাজের মতোই শক্তির এককও জুল (J)। যান্ত্রিক শক্তির প্রধান দুটি রূপ: গতিশক্তি () যা গতির কারণে অর্জিত হয় এবং বিভব শক্তি () যা অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে সঞ্চিত থাকে।
১. গতিশক্তি (Kinetic Energy)
কোনো বস্তু তার গতির জন্য কাজ করার যে সামর্থ্য লাভ করে, তাকে গতিশক্তি বলে।
গতিশক্তির সমীকরণ প্রতিপাদন:
ধরি, ভরের একটি স্থির বস্তুর () ওপর বল প্রয়োগ করায় বস্তুটি ত্বরণে দূরত্ব অতিক্রম করে বেগ লাভ করল।
সম্পন্ন কাজ = গতিশক্তি () =
গতির সমীকরণ হতে আমরা জানি:
অতএব, গতিশক্তি:
গতিশক্তি ও ভরবেগের সম্পর্ক (বোর্ড পরীক্ষার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ):
ভরবেগ । এই মানটি গতিশক্তিতে বসালে পাওয়া যায়:
অর্থাৎ, গতিশক্তি ভরবেগের বর্গের সমানুপাতিক ()। ভরবেগ দ্বিগুণ করলে গতিশক্তি ৪ গুণ বৃদ্ধি পাবে!
২. বিভব শক্তি (Potential Energy)
স্বাভাবিক অবস্থা বা অবস্থান থেকে পরিবর্তন করে কোনো বস্তুকে অন্য কোনো অবস্থা বা অবস্থানে আনলে বস্তু কাজ করার যে সামর্থ্য অর্জন করে, তাকে বিভব শক্তি বা স্থিতিশক্তি বলে।
- অভিকর্ষজ বিভব শক্তি: ভরের কোনো বস্তুকে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতায় তুলতে অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে যে কাজ করা হয়:
- স্প্রিংয়ের সঞ্চিত বিভব শক্তি: কোনো স্প্রিংকে স্বাভাবিক অবস্থান থেকে পরিমাণ সংকুচিত বা প্রসারিত করলে সঞ্চিত বিভব শক্তি: (যেখানে হলো স্প্রিং ধ্রুবক)।
গতিশক্তি ও বিভব শক্তির সমীকরণ
একক: একক: জুল (J), মাত্রা: [E] = ML²T⁻²চলকের পরিচয় ও অর্থ
= গতিশক্তি (Kinetic energy in Joule, J)
= বিভব শক্তি (Potential energy in Joule, J)
= বস্তুর ভর (kg)
= বস্তুর রৈখিক বেগ (ms⁻¹)
= ভরবেগ (kg·ms⁻¹)
= উল্লম্ব উচ্চতা (m)
= অভিকর্ষজ ত্বরণ ()
গাণিতিক সমস্যা: 10 kg ভরের একটি বস্তুকে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে 30 m উপরে উঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো। ভূমি স্পর্শ করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এর গতিশক্তি কত হবে?
শক্তির নিত্যতা নীতি অনুসারে, সর্বোচ্চ উচ্চতায় বস্তুর মোট শক্তি সম্পূর্ণ বিভব শক্তি হিসেবে জমা থাকে এবং মাটিতে স্পর্শ করার মুহূর্তে সমস্ত বিভব শক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সর্বোচ্চ উচ্চতায় বিভব শক্তি:
অতএব, ভূমি স্পর্শ করার মুহূর্তে গতিশক্তি ।
সর্বোচ্চ উচ্চতায় বিভব শক্তি:
অতএব, ভূমি স্পর্শ করার মুহূর্তে গতিশক্তি ।