সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে অবস্থানের পরিবর্তনই হলো গতি (Motion) এবং অবস্থানের পরিবর্তন না ঘটলে তা হলো স্থিতি (Rest)। মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই পরম স্থিতিশীল নয়—সকল স্থিতি ও গতিই আপেক্ষিক। গতির গতিপথ ও বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে গতিকে প্রধানত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়।
১. প্রসঙ্গ কাঠামো ও আপেক্ষিকতা (Reference Frame & Relativity)
যার সাপেক্ষে কোনো বস্তুর স্থিতি বা গতি নির্ণয় করা হয়, তাকে প্রসঙ্গ কাঠামো (Reference Frame) বা প্রসঙ্গ বিন্দু বলে। যেমন: তুমি যখন একটি চলন্ত ট্রেনের কামরায় বসে আছো, তখন তোমার পাশে বসা সহযাত্রীর সাপেক্ষে তুমি স্থির, কিন্তু ট্রেনের বাইরে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির সাপেক্ষে তুমি গতিশীল।
পরম স্থিতি ও পরম গতি: যদি এমন কোনো প্রসঙ্গ বিন্দু পাওয়া যেত যা বাস্তবিকই মহাবিশ্বে সম্পূর্ণ চিরস্থির, তবে তার সাপেক্ষে যে কোনো বস্তুর গতিকে বলা হতো 'পরম গতি' এবং স্থির বস্তুকে বলা হতো 'পরম স্থিতি'। কিন্তু পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, সৌরজগৎ ছায়াপথের কেন্দ্রে ঘুরছে—মহাবিশ্বের সবকিছুই গতিশীল। তাই সকল স্থিতিই আপেক্ষিক, সকল গতিই আপেক্ষিক; কোনো গতিই পরম নয়।
২. বিভিন্ন প্রকার গতি (Types of Motion)
NCTB পাঠ্যবই অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবনে পরিলক্ষিত গতিসমূহকে মূলত ৫টি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
গতির ৫টি প্রধান প্রকারভেদ
১. সরলরৈখিক গতি (Linear Motion)
সরলরেখাকোনো বস্তু যখন একটি সোজা সরলরেখা বরাবর গতিশীল থাকে। উদাহরণ: সোজা রাস্তায় চলন্ত গাড়ি, সোজা উপর থেকে নিচে পড়া কোনো বল।
২. ঘূর্ণন গতি (Rotational Motion)
ঘূর্ণন অক্ষকোনো নির্দিষ্ট বিন্দু বা অক্ষের চারদিকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণন। উদাহরণ: বৈদ্যুতিক পাখার পাখা, ঘড়ির কাঁটার গতি।
৩. চলন গতি (Translational Motion)
সমান্তরাল সরণকোনো বস্তু এমনভাবে চলে যে এর প্রতিটি বিন্দু বা কণা একই সময়ে একই দিকে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে। বক্র বা সরলরেখা উভয়ই হতে পারে।
৪. পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion)
নির্দিষ্ট পর্যায়কালগতিশীল কোনো কণা যদি তার নির্দিষ্ট গতিপথে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে। উদাহরণ: ঘড়ির কাঁটা, হৃদস্পন্দন।
৫. স্পন্দন গতি (Vibratory / Harmonic Motion)
অগ্র-পশ্চাৎ দোলনপর্যায়বৃত্ত গতির কণা যদি এর পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একদিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় তার বিপরীত দিকে গতিশীল থাকে। উদাহরণ: সরল দোলক, গিটারের তারের কম্পন।
সকল স্পন্দন গতিই পর্যায়বৃত্ত গতি, কিন্তু সকল পর্যায়বৃত্ত গতি স্পন্দন গতি নয়!
ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা বা ফ্যানের গতি পর্যায়বৃত্ত গতি, কিন্তু স্পন্দন গতি নয় (কারণ এরা কখনো উল্টো দিকে যায় না)। অথচ সরল দোলকের গতি পর্যায়বৃত্ত গতি এবং স্পন্দন গতি উভয়ই।