বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকে এবং গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকে (নিউটনের ১ম সূত্র)। বস্তুর নিজের অবস্থা বজায় রাখার এই প্রাকৃতিক প্রবণতাই হলো জড়তা (Inertia)। এছাড়া প্রকৃতিতে পরিলক্ষিত সকল বলকে মূলত ৪টি মৌলিক বলের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
১. জড়তা ও নিউটনের প্রথম গতিসূত্র (Inertia & First Law)
নিউটনের প্রথম গতিসূত্র: বাইরে থেকে কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
এই সূত্রটি আমাদের দুটি মৌলিক ধারণা দেয়: (১) বলের গুণগত সংজ্ঞা এবং (২) বস্তুর জড়তা।
জড়তার প্রকারভেদ (Types of Inertia)
১. স্থিতি জড়তা (Inertia of Rest)
স্থির বস্তুর চিরকাল স্থির থাকার প্রবণতা।
বাস্তব উদাহরণ: স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পেছনের দিকে হেলে পড়েন। কারণ শরীরের নিচের অংশ বাসের সাথে গতিশীল হলেও উপরের অংশ স্থিতি জড়তার কারণে স্থির থাকতে চায়। কম্বলকে লাঠি দিয়ে পেটালে ধুলাবালি ঝরে পড়ে স্থিতি জড়তার কারণে।
২. গতি জড়তা (Inertia of Motion)
গতিশীল বস্তুর একই গতিতে সরলরেখায় চলতে থাকার প্রবণতা।
বাস্তব উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক কষলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ শরীরের নিচের অংশ বাসের সাথে সাথে থেমে গেলেও উপরের অংশ গতি জড়তার কারণে সামনের দিকে এগোতে চায়। চলন্ত ফ্যানের সুইচ বন্ধ করার পরও পাখা কিছুক্ষণ ঘোরে।
২. মহাবিশ্বের ৪টি মৌলিক বল (Fundamental Forces)
প্রকৃতিতে যত প্রকার বল দেখা যায়—পেশিজ বল, ঘর্ষণ বল, চৌম্বক বল বা রাসায়নিক বন্ধন—সবগুলোই প্রকৃতপক্ষে ৪টি মৌলিক বলের রূপভেদ:
| মৌলিক বল | উৎস ও বৈশিষ্ট্য | আপেক্ষিক তীব্রতা | কার্যকর পাল্লা |
|---|---|---|---|
| ১. মহাকর্ষ বল (Gravitational) | ভরের কারণে যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল। মহাবিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল বল। | 1 (ভিত্তি) | অসীম () |
| ২. দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear) | তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বেটা () কণা ক্ষরণের জন্য দায়ী। স্বল্প পাল্লার বল। | 10²⁵ | < 10⁻¹⁸ m |
| ৩. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic) | আধানযুক্ত কণার আকর্ষণ-বিকর্ষণ। ঘর্ষণ, স্থিতিস্থাপকতা ইত্যাদি এর রূপ। | 10³⁶ | অসীম () |
| ৪. সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear) | পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনকে একত্রে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে। সবচেয়ে শক্তিশালী বল। | 10³⁸ | ~ 10⁻¹⁵ m (নিউক্লীয় আকার) |
৩. সাম্য বল ও অসাম্য বল (Balanced & Unbalanced Forces)
কোনো বস্তুর উপর একাধিক বল ক্রিয়া করলে যদি তাদের লব্ধি (Vector Sum) শূন্য হয় (sum ec{F} = 0), তবে তাকে সাম্য বল বলে। সাম্য বলের প্রভাবে বস্তুর ত্বরণ শূন্য থাকে। আর লব্ধি বল অশূন্য হলে তাকে অসাম্য বল বলে, যার প্রভাবে বস্তুতে ত্বরণ সৃষ্টি হয় ()।